দুর্বল অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে ২০২৫ সালে এলএনজি আমদানি কমেছে চীনে। চলতি বছর দেশটির এলএনজি আমদানির পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কম। আমদানির এ পরিমাণ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা কমে যাওয়ায় আমদানি কমেছে। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের বড় অংশই শিল্প খাতনির্ভর। তবে নভেম্বর পর্যন্ত টানা আট মাস কারখানাভিত্তিক কার্যক্রম দুর্বল ছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং মধ্য এশিয়া ও রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ায় এলএনজি আমদানিনির্ভরতা কমেছে দেশটিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধও চীনে এলএনজি আমদানিতে প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর এলএনজি আমদানি করেনি দেশটি। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের অংশ হিসেবে এলএনজিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে মার্কিন এলএনজি চীনা ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে চলতি বছর দেশটির মোট এলএনজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা নেমে এসেছে দশমিক ৪ শতাংশে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটিতে আমদানি কমার প্রবণতা বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।